তেলিয়ামুড়া, ৭ জুলাই: বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়, আধুনিক জীবনের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। আলো, পানীয় জল, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। অথচ দিনের পর দিন বিদ্যুৎ পরিষেবায় অনিশ্চয়তা এবং প্রিপেইড বিদ্যুতের রিচার্জ করতে গিয়ে বারবার ‘সার্ভার ডাউন’-এর অজুহাতে গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে তেলিয়ামুড়া মহকুমাজুড়ে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার শান্তিনগর এলাকার কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে তেলিয়ামুড়া ব্লক কংগ্রেস। সেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল অবস্থা, প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থায় ঘনঘন প্রযুক্তিগত বিভ্রাট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন দলের নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে অসংখ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক দপ্তরে গিয়েও সার্ভার বিভ্রাটের কারণে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে পারেননি। ফলে বহু পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জলের সংকট, মোবাইল ফোন চার্জিং, পড়ুয়াদের পড়াশোনা এবং ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয় এবং সমস্যার সমাধানের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ পর্যন্ত করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, প্রশাসন সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অশোক কুমার বৈদ্য, তেলিয়ামুড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অতনু পাল, জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ, অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের ব্লক চেয়ারম্যান মিন্টু দেব এবং জেলা কংগ্রেসের সদস্য রাজধন সরকার।
কংগ্রেস নেতৃত্ব অবিলম্বে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থায় ঘনঘন সার্ভার বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে।
নেতৃত্বের বক্তব্য, নাগরিকদের মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানই এখন সময়ের দাবি।























