কলকাতা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): ঘৃণাত্মক ভাষণ সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েস স্যাম্পল দিতে অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। একইসঙ্গে জেলা আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর করা মামলার জরুরি শুনানির আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারসভায় হিংসা উসকে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় রাজ্য পুলিশের সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রচারসভার ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে অভিষেকের ভয়েস স্যাম্পল চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
আগামী বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। জেলা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে তাঁকে ভয়েস স্যাম্পল দিতে হবে।
এর আগে জেলা আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে সেই আবেদন জানানো হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি।
শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত গ্রেফতার-সহ কোনও কড়া পুলিশি পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পাওয়ার পরও তদন্তে সহযোগিতা করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি কোথায়।
অভিষেকের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, প্রচারসভার ভিডিওতে শোনা কণ্ঠস্বর যে তাঁর মক্কেলেরই, তা তিনি স্বীকার করেছেন। তাই আলাদা করে ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের আইনজীবী জানান, ভয়েস স্যাম্পল দিতে অস্বীকার করা তদন্তে অসহযোগিতার শামিল। ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে রেকর্ড করা বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজ্য সরকারের তরফে আরও বলা হয়, হাই কোর্ট যে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল, তার অন্যতম শর্তই ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। ভয়েস স্যাম্পল দেওয়া সেই সহযোগিতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি মৌখিকভাবে মন্তব্য করেন, যেহেতু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি কড়া পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন, তাই তাঁর উচিত তদন্তে সহযোগিতা করে দ্রুত ভয়েস স্যাম্পল দেওয়া।
শেষ পর্যন্ত আদালত জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি করতে অস্বীকার করে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে ১০ জুলাই নির্ধারণ করে।























