গুয়াহাটি, ২২ জুন : আগামী ৪ আগস্ট থেকে গুয়াহাটি থেকে দুবাই এবং আবুধাবির উদ্দেশ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করবে এয়ার ইন্ডিয়া। এই ঘোষণা করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, এই উদ্যোগ রাজ্যের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং গুয়াহাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ ও ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি সম্প্রতি অসমের উপর জারি থাকা ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা প্রত্যাহার করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ঘোষণা করা হল।
তিনি লেখেন, “বিশ্বের সঙ্গে অসমের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি অসমের জন্য তাদের ভ্রমণ সতর্কতা প্রত্যাহার করার কয়েক দিনের মধ্যেই আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আগামী ৪ আগস্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া গুয়াহাটি থেকে দুবাই এবং আবুধাবির সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু করবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই নন-স্টপ বিমান পরিষেবা চালু হলে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এই দুই নতুন রুট চালু হওয়ার ফলে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চারটি দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হবে। দেশগুলি হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভুটান।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, গুয়াহাটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হল গুয়াহাটি থেকে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা। এ বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজ্য সরকারের মতে, এই নতুন আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাগুলি পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশে বসবাসকারী অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করবে।
গত কয়েক বছরে গুয়াহাটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অসম সরকার। উন্নত বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই বিমান পরিষেবাগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং গুয়াহাটিকে একটি প্রধান বিমান পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বড়সড় গতি এনে দেবে।



















