নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র এশিয়ান এজ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই সরকারের আমলে সুইস ব্যাঙ্ক এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের মতো করস্বর্গে (ট্যাক্স হ্যাভেন) বিপুল অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুইস ব্যাঙ্ক আমানতের পরিমাণ এক বছরে প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এই আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৮৩৪.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক স্বচ্ছতা এবং বিদেশে সম্পদ সঞ্চয়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, ১ সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫২ বাংলাদেশি টাকা ধরে এই আমানতের মোট মূল্য প্রায় ১২,৬৭৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশি আমানতের পরিমাণ ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ এবং গত এক দশকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, সুইস ব্যাঙ্কের তথ্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রবাহের কেবল একটি সীমিত চিত্র তুলে ধরে। অবৈধ অর্থপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মালয়েশিয়া এবং কেম্যান আইল্যান্ডস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের মতো অফশোর আর্থিক কেন্দ্রেও বাংলাদেশ থেকে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জনপরিসরে আলোচিত কিছু অনুমানের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট অর্থপাচারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি বাংলাদেশি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে এটাও স্বীকার করা হয়েছে যে, এই ধরনের পরিসংখ্যানের সত্যতা এবং হিসাব পদ্ধতি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও, অর্থপাচারের সম্ভাব্য ব্যাপকতা বোঝাতে এই সংখ্যাগুলি প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসছে।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, ইউনূস প্রশাসনের দেড় বছরের সময়কাল বাংলাদেশের ইতিহাসে মূলধন পাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার এক নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তাঁদের মতে, এই সময়কালের ঘটনাবলি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত, পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষা এবং ঐতিহাসিক মূল্যায়ন জরুরি।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, এই বিতর্ক কেবল অর্থপাচারের প্রশ্ন নয়; বরং জবাবদিহি, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় বয়ানকে ঘিরে বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামেরও প্রতিফলন।
______























