জয়পুর, ২২ জুন (আইএএনএস): রাজস্থানের কোটা ও বিকানেরে সিজারিয়ান প্রসবের পর মাতৃমৃত্যু এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতার ঘটনার পর এবার জোধপুরের পাওটা জেলা হাসপাতালেও একই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। হাসপাতালের আটজন প্রসূতি সিজারিয়ানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁদের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জুন পাওটা জেলা হাসপাতালে আটজন গর্ভবতী মহিলার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরই তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। গুরুতর অসুস্থ দুই মহিলাকে জোধপুরের এমডিএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
একজন রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গুরুতর কিডনি জটিলতা দেখা দেয়। অন্য এক রোগী সিজারিয়ানের পর অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিৎসা পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর দুই কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মূত্রত্যাগজনিত সমস্যাও তৈরি হয়েছে। পরে তাঁকে আইসিইউ-তে ভর্তি করে ডায়ালিসিস শুরু করা হয়।
সরকারি সূত্রের খবর, একই দিনে সিজারিয়ান হওয়া আরও কয়েকজন প্রসূতির শরীরও খারাপ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেপটিসেমিয়া বা রক্তে সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ।
গুরুতর অসুস্থ এক মহিলা জোধপুর গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে সিজারিয়ানের পর তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায় এবং কিডনির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে শনিবার গভীর রাতে তাঁকে এমডিএম হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, আরেক রোগী অস্ত্রোপচারের পর অচেতন হয়ে পড়েন। পরীক্ষায় তাঁর কিডনি ও লিভারের ক্ষতির পাশাপাশি মূত্রত্যাগে সমস্যা ধরা পড়ে। তাঁকেও আইসিইউ-তে স্থানান্তর করে ডায়ালিসিসে রাখা হয়েছে।
পাওটা হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা আধিকারিক ডা. কুলবীর সিং জানান, বিষয়টি মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বি. এস. যোধা বলেন, আক্রান্ত রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন কালচার টেস্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, বিকানেরের পিবিএম হাসপাতালেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে চিকিৎসাধীন আরও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। প্রসবের পর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত ওই মহিলার নাম শারদা (২৬)। এর আগে একই ধরনের জটিলতায় প্রীতি নামে আরেক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। ফলে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দু’জন হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত আরও দুই প্রসূতি— ইমরতি ও কমলার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
ঘটনাগুলি ঘিরে হাসপাতালের পরিষেবা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোগী পরিচর্যার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং এই জটিলতার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।























