নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জুন: ত্রিপুরায় প্রস্তাবিত নতুন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গত ২৬ জুন কলেজ চত্বর পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে। নতুন শিক্ষাবর্ষ (অ্যাকাডেমিক সেশন) থেকেই যাতে কলেজের পঠন-পাঠন শুরু করা যায়, সেই লক্ষ্য ও পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই এই বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সচিবের সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিব ও মিশন ডিরেক্টর সাজু ওয়াহিদ এ পিডব্লিউডির চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের ব্রাঞ্চ অফিসার (হোমিওপ্যাথি) ডাঃ সুজয় দাস, ডিএমই-র ব্রাঞ্চ অফিসার (হোমিওপ্যাথি) ডাঃ দেবজ্যোতি সাহা, নেতাজি সুভাষ স্টেট হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের এমওআইসি ডাঃ সুশান্ত সরকার এবং প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের ইমপ্লিমেন্টিং অফিসার ডাঃ শুভাশিস ভট্টাচার্য।
পরিদর্শন শেষে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত এই ৬০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজের সিভিল ওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ সহ প্রায় ৯৫% কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল কমিশন অফ হোমিওপ্যাথি-র প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই দু’বার কলেজটি পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন। এখন কেবল কলেজের অনুমোদন পাওয়া গেলেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রভর্তি ও ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে এবং পিডব্লিউডি-র ইঞ্জিনিয়াররা প্রস্তাবিত নতুন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং ও হোস্টেল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ঘুরে দেখেন এবং এর নকশা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। নতুন এই কলেজটি চালু হলে রাজ্যের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং নতুন প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানটির সরেজমিনে যাচাই করা। পরিদর্শনকালে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি ও কাজের গুণগত মান নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পূর্ত দপ্তর কর্তৃক তৈরি করা মাস্টার প্ল্যানটি যাতে বাস্তবের সাথে হুবহু মিলে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পরিদর্শন। পরিদর্শনের সময় এক্সিকিউটিভ ও চিফ ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত থেকে কর্তৃপক্ষকে এই নকশার খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেন।
চূড়ান্ত অনুমোদিত মাস্টার প্ল্যানে একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্যাম্পাসের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত শিক্ষাদানের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক একাডেমিক বিল্ডিং। কলেজ এবং স্থানীয় জনগণ-উভয়ের চিকিৎসায় নিয়োজিত নতুন হাসপাতাল, আবাসিক কোয়ার্টার ও হোস্টেল। নির্মাণকাজের চমৎকার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

















