নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে দেশের শক্তি ও সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ছিল “অনুপ্রেরণাদায়ক এবং চিন্তাশীল”। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাবনা দেশের শক্তি এবং প্রতিটি ভারতীয়র আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে। তাঁর বার্তা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে নতুন উদ্যম ও সংকল্প নিয়ে কাজ করতে সকলকে অনুপ্রাণিত করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি মুর্মু গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে নানা অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নারী, যুবসমাজ, দরিদ্র ও কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি দেশের তরুণদের আশ্বস্ত করেন যে, পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম রুখতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ১০ বছরে ‘বিকাশ ও বিরাসত’—অর্থাৎ উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের সংকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি জানান, উন্নত পরিকাঠামোর ফলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারত এগিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের অগ্রগতির পিছনে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। ৩৫ বছরের নিচে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যা থাকায় ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মই দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ২৫ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৯ কোটি মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ কোটিরও বেশি মহিলা অ্যাকাউন্টধারী রয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি।
নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টিও ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পায়। মহিলা সংরক্ষণ আইন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াচ্ছে এবং গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি মুর্মুর বক্তব্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তাঁর বার্তা দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণে দেশবাসীকে নতুন সংকল্পে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।


















