শিমলা, ২৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রবীণ নেতা মেজর বিজয় সিং মানকোটিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। মঙ্গলবার ৮৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব বিন্দল, বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রেম কুমার ধুমল ও শান্তা কুমার-সহ দলের একাধিক নেতা মানকোটিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন। সাংসদ সুরেশ কাশ্যপ, রাজীব ভরদ্বাজ, কঙ্গনা রানাউত, সিকন্দর কুমার ও হর্ষ মহাজনও শোক জানান।
বিজেপি নেতারা বলেন, মেজর মানকোটিয়ার জীবন ছিল দেশসেবা ও জনসেবার এক অনন্য সমন্বয়। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আধিকারিক হিসেবে দেশের সেবা করেন। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও শৃঙ্খলা, স্পষ্টবাদিতা ও নির্ভীকতার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কাংড়া জেলার শাহপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন মানকোটিয়া। রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পর্যটন, অসামরিক বিমান পরিবহণ এবং আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছিলেন।
প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে হিমাচল প্রদেশের জনজীবন ও রাজনীতিতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাড্ডা শোকবার্তায় বলেন, মানকোটিয়ার মৃত্যু হিমাচল প্রদেশের জনজীবনের জন্য বড় ক্ষতি। দেশের সেবায় একজন সেনা হিসেবে এবং পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে। তাঁর আত্মার শান্তি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শক্তি কামনা করেন নাড্ডা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব বিন্দল মানকোটিয়াকে অভিজ্ঞ, স্পষ্টবাদী ও নির্ভীক জননেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেনা হিসেবে দেশের সেবা থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী হিসেবে মানুষের সেবা—জীবনের বড় একটি অংশ দেশ ও হিমাচল প্রদেশের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন মানকোটিয়া।
বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরও তাঁর রাজনৈতিক ও জনজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। কাংড়া, বিশেষ করে শাহপুর এলাকার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রেম কুমার ধুমল ও শান্তা কুমারও রাজ্যের রাজনৈতিক ও জনজীবনে মানকোটিয়ার দীর্ঘ অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিজেপি নেতৃত্ব জানায়, একজন সেনা আধিকারিক হিসেবে তাঁর সেবা, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জনস্বার্থের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।



















