নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সশস্ত্র বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্যদের জন্য ৭৮টি বীরত্ব পুরস্কারের অনুমোদন দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য কঠিন অপারেশনাল এলাকায় অসাধারণ সাহস ও বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারগুলি দেওয়া হয়েছে।
মোট ৭৮টি পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ১৩টি মরণোত্তর সম্মান। পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে ৯টি কীর্তি চক্র, একটি শৌর্য চক্রের ‘বার’, ১৯টি শৌর্য চক্র, ৫টি সেনা মেডেল (গ্যালান্ট্রি)-এর ‘বার’, ৩৬টি সেনা মেডেল, ৩টি নৌসেনা মেডেল এবং ৫টি বায়ুসেনা মেডেল।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ৮৯টি ‘মেনশন-ইন-ডেসপ্যাচেস (সামরিক বিশেষ উল্লেখ)’-এরও অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৭৫ জন, বায়ুসেনার ১০ জন এবং নৌসেনার ৪ জন সদস্য রয়েছেন। তবে এ বছর দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব পুরস্কার অশোক চক্র কাউকেই দেওয়া হয়নি।
সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে তিনটি কীর্তি চক্রই দেওয়া হয়েছে প্যারাশুট রেজিমেন্টের স্পেশাল ফোর্সেসের সদস্যদের। ২১ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মানেও ফ্রান্সিস পিএফ এবং ২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর মেজর জিতেন্দ্র রাঠি কীর্তি চক্র পেয়েছেন। এর আগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফ্রান্সিস শৌর্য চক্রেও সম্মানিত হয়েছিলেন।
২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে মরণোত্তর কীর্তি চক্র দেওয়া হয়েছে।
বাকি ছয়টি কীর্তি চক্রই কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মরণোত্তর প্রদান করা হয়েছে। তাঁরা হলেন হেড কনস্টেবল জগবীর সিং ও বশির আহমেদ, স্পেশাল গ্রেড কনস্টেবল যশবন্ত সিং, বলবিন্দর সিং ও তারিক হুসেন এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ইন্সপেক্টর সুনীল কুমার।
রাজপুতানা রাইফেলসের মেজর আদিত্য প্রতাপ সিং, যিনি বর্তমানে ৪৪ অসম রাইফেলসে কর্মরত, শৌর্য চক্রের ‘বার’ পেয়েছেন। এর আগে তিনি শৌর্য চক্র এবং সেনা মেডেল পেয়েছিলেন। ফের অপারেশনাল দায়িত্বে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাঁচটি মরণোত্তর সেনা মেডেল অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি পেয়েছেন ১৯ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্য ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষ, ল্যান্স নায়েক সুজয় ঘোষ, ল্যান্স নায়েক প্রতিপাল সিং এবং সিপাহী হরমিন্দর সিং। ৯ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সুবেদার পরভাত গৌরকেও মরণোত্তর সেনা মেডেল দেওয়া হয়েছে।
একই ইউনিটের ল্যান্স নায়েক নরেন্দর সিন্ধু একমাত্র মরণোত্তর শৌর্য চক্র প্রাপক।
ভারতীয় নৌসেনার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শিবম কুমার শৌর্য চক্র পেয়েছেন। নৌসেনা মেডেল (গ্যালান্ট্রি) পেয়েছেন কমান্ডার যুবরাজ কুমার, কমান্ডার বিনীত শর্মা এবং পেটি অফিসার অবিনাশ আন্নাসো।
‘মেনশন-ইন-ডেসপ্যাচেস (সামরিক বিশেষ উল্লেখ)’ তালিকাতেও নৌসেনার চার সদস্যের নাম রয়েছে। তাঁরা হলেন কমান্ডার নিখিল চুঘ, লেফটেন্যান্ট অজয় জোস এন জোসেফ, অভিষেক ধানাওয়াড়ে এবং অশ্বিন সন্তোষ।
ভারতীয় বায়ুসেনায় স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার একমাত্র শৌর্য চক্র প্রাপক। গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাহুল জাগোটা ও রাহুল রাওয়াত-সহ মোট পাঁচজন বায়ুসেনা কর্মী পেয়েছেন বায়ুসেনা মেডেল।
‘মেনশন-ইন-ডেসপ্যাচেস (সামরিক বিশেষ উল্লেখ)’-এর তালিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যদেরও সম্মানিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অধিকাংশ স্বীকৃতি জম্মু ও কাশ্মীরে অপারেশন রক্ষক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অপারেশন হিফাজত ও অপারেশন অর্কিড-এর সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়া পূর্ব লাদাখে অপারেশন স্নো লেপার্ড এবং সিয়াচেন হিমবাহ এলাকায় অপারেশন মেঘদূত-এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদেরও সম্মানিত করা হয়েছে।
অপারেশন হিফাজতের জন্য ২ মহর-এর দুই অগ্নিবীর হরিওম ও কৃষ্ণ কুমারের নামও ‘মেনশন-ইন-ডেসপ্যাচেস (সামরিক বিশেষ উল্লেখ)’ তালিকায় রয়েছে।
শুধু সেনা সদস্যরাই নন, সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত কুকুর টাইসন-কেও এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। রিমাউন্ট ভেটেরিনারি কর্পসের এই আর্মি ডগটি ২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত এই পুরস্কারগুলি দেশের নিরাপত্তা ও সেবায় অসাধারণ সাহস দেখানো সশস্ত্র বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অবদানের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মানের প্রতিফলন।


















