News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • দেশভাগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে এগোতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী
Image

দেশভাগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে এগোতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ আগস্ট: দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। একইসঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আজ আগরতলার বড়দোয়ালি স্কুলে বিজেপি সদর শহর জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশভাগের সময়ের ভয়াবহতা, মানুষের দুর্ভোগ ও প্রাণহানির কথা স্মরণ করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ আগস্ট ভারতের ইতিহাসে চিরকাল একটি অসহনীয় যন্ত্রণার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কয়েকটি হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সেদিন মাতৃভূমি বিভক্ত হয়েছিল। দেশভাগের ফলে অগণিত মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ, ক্ষতি ও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই বেদনাদায়ক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে দেশ আর কোনও ধরনের বিভাজনের মুখে না পড়ে, সেদিকেও সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দেশভাগের ঘটনা শুধুমাত্র ভারতের মানচিত্রের পরিবর্তন ছিল না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন, স্বজন হারানোর বেদনা, বাস্তুচ্যুতি এবং সীমাহীন দুর্ভোগের ইতিহাস। তাই এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ঐক্য, সংহতি ও সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এদিন ত্রিবর্ণ পতাকার গুরুত্বও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার প্রতিটি রঙের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের ইতিহাস বহন করে ভারতের ত্রিবর্ণ পতাকা।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিবর্ণ পতাকার সঙ্গে প্রতিটি ভারতীয়র একটি গভীর আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। এই পতাকা দেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও গৌরবের প্রতীক। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা আরও জাগ্রত করার লক্ষ্যেই ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি সকল নাগরিককে এই কর্মসূচিতে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিজেপি সদর শহর জেলার সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা। দেশভাগের ইতিহাস স্মরণ করে অনুষ্ঠানে ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরা হয়।

Releated Posts

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ আগস্ট:মানুষের জীবনে চোখের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণ সমস্যা থেকে শুরু করে জটিল ও বিশেষায়িত চক্ষুরোগের…

ByByReshmi Debnath Aug 14, 2026

বেঙ্গালুরু থেকে নিখোঁজ নাবালিকাকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম, ১৪ আগস্ট: সাব্রুম থেকে নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকাকে বেঙ্গালুরু থেকে নিরাপদে উদ্ধার করে ত্রিপুরায় ফিরিয়ে আনল…

ByByReshmi Debnath Aug 14, 2026

বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিতিতে বিলোনিয়ায় পালিত ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ১৪ আগস্ট: দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাস ও সেই সময়ের ভয়াবহতা স্মরণ করে শুক্রবার বিলোনিয়ার শচীনদেব বর্মন অডিটোরিয়ামে…

ByByReshmi Debnath Aug 14, 2026

আমবাসা মোটরস্ট্যান্ডে পতাকা লাগানোকে ঘিরে উত্তেজনা, যানচালকদের বাধায় পিছু হটল তিপ্রা মথা

আমবাসা, ১৪ আগস্ট:  আমবাসা মোটরস্ট্যান্ডে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল। তিপ্রা মথার কয়েকজন কর্মী মোটরস্ট্যান্ডে গিয়ে…

ByByReshmi Debnath Aug 14, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top