গুয়াহাটি, ২২ জুন : আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ অম্বুবাচী মেলা। অসমের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত পবিত্র কামাখ্যা মন্দিরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই চারদিনব্যাপী উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারীশক্তি ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে পালিত অম্বুবাচী মেলা দেবী কামাখ্যার বার্ষিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। শাক্ত ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষত তান্ত্রিক সাধনা ও শক্তি উপাসনার ক্ষেত্রে অম্বুবাচী মেলাকে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ‘প্রবৃত্তি’ আচার পালনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। এর পরই তিন দিনের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এই সময় ভক্তদের গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রথা অনুযায়ী, দেবীর ঋতুকাল চলাকালীন মন্দিরের অভ্যন্তরে সমস্ত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। এই সময়টিকে দেবীর নির্জনবাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগামী ২৬ জুন সকালে ‘নিবৃত্তি’ আচার এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন হওয়ার পর মন্দিরের দরজা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর ভক্তরা দেবীর দর্শন ও পূজার সুযোগ পাবেন।
নীলাচল পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির হিন্দু ধর্মের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম এবং দেশের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দির পুনরায় খুলে দেওয়ার পর হাজার হাজার ভক্ত ‘অঙ্গোদক’ ও ‘অঙ্গবস্ত্র’ গ্রহণের জন্য ভিড় করবেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দুটি প্রসাদ অত্যন্ত পুণ্য ও শুভফলদায়ক।
অম্বুবাচী মেলাকে কেন্দ্র করে অসম সরকার ও কামাখ্যা মন্দির কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা, আবাসন এবং খাদ্য বিতরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের কোনও অসুবিধা না হয়।
প্রতি বছর অম্বুবাচী মেলার সময় গুয়াহাটি এক বিশাল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়। লক্ষাধিক ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে সমগ্র শহর। এ বছরও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে এক বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের সাক্ষী হতে চলেছে কামাখ্যা ধাম।
সূত্র: আইএএনএস



















