আগরতলা, ২০ জুন: গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও দৈনন্দিন সমস্যার কথা সরাসরি জানতে শনিবার দিনভর চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস, খোয়াই জেলা পরিষদের সদস্য রঞ্জিত সরকার, মণ্ডল নেতৃত্ব এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা।
দিনভর একাধিক উঠোন বৈঠক ও ঘরোয়া আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পানীয় জলের সমস্যা, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের আবেদন জানান।
বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে বার্ধক্য ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। বহু প্রবীণ নাগরিক তাঁদের সমস্যার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর বিকাশ দেববর্মা জানান, প্রশাসনিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাতা প্রদানে বিলম্ব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিন গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রেশম শিল্প ও তুঁত চাষের প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে রেশম শিল্পভিত্তিক আয়ের সুযোগ তৈরি করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি স্বনিযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারের আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব।
সরকারি পরিষেবার সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ রাখার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আগামী দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি যাচাইয়ের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করে জন্মসনদ, আধার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন।
জনসংযোগ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কর্মসূচিতে উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের সরাসরি জনসংযোগ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি প্রশাসনের নজরে আনতে এবং দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চাকমাঘাটের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।



















