আগরতলা, ২০ জুন: সাব্রুম রেলস্টেশনে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী ও যানবাহন চালকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় মহলে। সাব্রুম-আগরতলা ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে দমদমা শাস্ত্রী কলোনী হয়ে রেলস্টেশনে যাওয়ার প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব্রুম রেলস্টেশন চালু হওয়ার পর থেকে স্টেশনে যাওয়া-আসার জন্য ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকরাও।
এক অটোচালকের অভিযোগ, রাস্তার দুই পাশে ঝোপ-জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় পথ অনেকটাই সরু হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনও সময় মুখোমুখি যানবাহনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলা গাড়ি চালাতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে চালকদের।
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, রাস্তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ রাবার বাগান থাকায় সন্ধ্যার পর গোটা এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। এর ফলে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও অনেক সময় ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। তাঁর আশঙ্কা, রাজ্যে মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্জন রাস্তায় ছিনতাই বা অন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশেষ করে কলকাতা-শিয়ালদহ থেকে আসা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস গভীর রাতে সাব্রুম রেলস্টেশনে পৌঁছায়। সেই সময় যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের পক্ষ থেকে রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল চালু, রাস্তার দুই পাশ পরিষ্কার করা এবং দ্রুত বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট অথবা সৌরচালিত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মৌলিক পরিকাঠামোর এই দাবিগুলির প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কতটা দ্রুত সাড়া দেয়।



















