কলকাতা, ২০ জুন (আইএএনএস): কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে কলকাতায় অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরের বাইরে এই উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে।
তিনি লেখেন, “গত রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে দিল্লি থেকে নামার কিছুক্ষণ পরই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কিছু মানুষের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।”
একই পোস্টে অভিষেক অভিযোগ করেন, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এই ঘটনাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর বক্তব্য, “মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার পর্যাপ্ত প্রচার দেখা যাবে না।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিল্লি গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও শনিবার অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে তিনি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এক বিজেপি সমর্থক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, বিমানবন্দরের বাইরে ওই ব্যক্তিকে তৃণমূল সমর্থকেরা আটক করেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রশ্ন তোলেন, এটি কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যার চেষ্টা ছিল?
তিনি ‘এক্স’-এ লেখেন, “বিজেপি সমর্থকের হাতে বন্দুক। শীতল করে দেওয়ার মতো ভিডিও। গত রাতের কলকাতা বিমানবন্দরের আরও প্রমাণ। এটি কি হত্যার চেষ্টা?”
অন্য এক পোস্টে ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, তৃণমূলের মহিলা সমর্থকেরাই ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।
তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমি শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার কয়েক মিনিট আগে অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিল। তৃণমূলের মহিলা সমর্থকেরা তাকে আটক করেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কোথায় ছিল? ভিডিওই সব বলছে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মহিলা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছেন এবং কিছু লোক তাকে ধরে রেখেছেন।
শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার ‘রাষ্ট্র-সমর্থিত চেষ্টা’ বলে অভিযোগ করে। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে দলটি।
তবে ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
_______



















