আগরতলা, ২০ জুন: রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দুই কর্মীর কথিত পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আগরতলার বাধারঘাট এলাকায় এক মহিলার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত কবেরী সিনহা, যিনি স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী, অভিযোগ করেন যে শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাধারঘাট স্টেডিয়ামের কাছে তাঁর বাড়িতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল প্রবেশ করে। অভিযোগ, তারা স্থানীয় বিজেপি মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত। কবেরী সিনহার সঙ্গে একই দফতরের কর্মী পার্থ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিবাদ চলছিল। পার্থ চৌধুরীর স্ত্রী আগরতলা মহিলা থানা ও আমতলী থানাসহ বিভিন্ন থানায় এ বিষয়ে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয়কেই কর্মস্থল বদলি করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে পার্থ চৌধুরী কবেরী সিনহার বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কবেরী সিনহার দাবি, সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং মেয়েকে প্রাইভেট টিউশনে নিয়ে গিয়েছিলেন। পার্থ চৌধুরীর মোবাইল ফোন থেকে ফোন করে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, পার্থ চৌধুরীকে মারধর করা হচ্ছে। তাঁকে এবং তাঁর বৃদ্ধা মাকে বাধা দিতে গেলে তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়রাও আক্রান্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
কবেরী সিনহার আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক, সুস্মিতা দেবনাথের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার জন্য কয়েকজন সদস্য একটি ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পর ওই পুলিশ আধিকারিকের সহায়তায় হামলাকারীরা দ্বিতীয়বার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ফের মারধর চালায়। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের দাবি, ঘটনায় পার্থ চৌধুরী-সহ অন্তত চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। এছাড়াও একটি গাড়ি, একাধিক মোটরসাইকেল, সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও সরকারি ভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অরুন্ধতীনগর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকেও এখনও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। হামলা, ভাঙচুর বা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।






















