আগরতলা, ২০ জুন: ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্রীনিবাসের পরিচর্যাকারী মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মলয় পিট। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, চলমান তদন্তে কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করবেন না।
সম্প্রতি মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাসের পরিচর্যাকারী হিসেবে কর্মরত মনীষা দাসের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে। পরে তদন্তের যথাযথতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে রাজ্য সরকার জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে একটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মলয় পিট জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই সরকার-নিযুক্ত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের কর্মচারীরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। মনীষা দাসের মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা আলোচনা থেকে বিরত রয়েছি। এমনকি ফোনেও কথা বলিনি, যাতে কোনোভাবেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ না ওঠে।
মলয় পিট আরও জানান, রাজ্য সরকারের শর্ত অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে কলেজের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ত্রিপুরার ৩০০-রও বেশি মহিলা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এটিকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের মাধ্যমে সমাজ গঠনে নারীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
মলয় পিট জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনীষা দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। এদিকে, মনীষা দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকার পরিচালিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















