নয়াদিল্লি, ২০ জুন (আইএএনএস): ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার পর এবার ভারতের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)। সংগঠনটি তাদের মুখপত্র আল আজাইম-এর মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার জোরদার করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক সংখ্যাগুলিতে আইএসকেপি ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সমর্থকদের সেগুলির পাল্টা প্রচারে নামার আহ্বান জানিয়েছে। রামমন্দির থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীর— একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, সংগঠনটি সমর্থকদের সামাজিক মাধ্যমে আরও সক্রিয় হতে, ব্লগ চালু করতে এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে উৎসাহিত করছে। একইসঙ্গে বিচারব্যবস্থাকে ইসলামবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এক গোয়েন্দা আধিকারিক জানান, আইএসকেপি-ঘনিষ্ঠ ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। অভিযোগ, এই প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সূত্রের দাবি, আইএসকেপি আবারও রামমন্দির ইস্যুকে সামনে এনে প্রচার চালাতে শুরু করেছে। সংগঠনটি প্রশ্ন তুলছে কেন ভারতীয় মুসলিমরা এই বিষয়ে নীরব থেকেছেন এবং তাদের সমর্থকদের বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
আরও এক কর্মকর্তা জানান, রামমন্দির সংক্রান্ত আদালতের রায় ঘোষণার পর বহু বছর কেটে গেলেও আইএসকেপি নতুন করে এই বিষয়টি উত্থাপন করছে। তাদের উদ্দেশ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বয়ানের বিকল্প একটি বয়ান তৈরি করা।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আইএসকেপি সামাজিক মাধ্যম ও ব্লগের একটি সমান্তরাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছে, যা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বয়ানের পাল্টা প্রচার করবে। তাদের মতে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম শুধু ভারতের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
এছাড়া ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে সংগঠনটি। অভিযোগ, আইএসকেপি তাদের সমর্থকদের মধ্যে এই প্রচার চালাচ্ছে যে ভারত আফগান জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে এবং ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের উপর প্রভাব বিস্তার করবে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আফগান জনমতকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা।
এদিকে, আফগান তালিবান সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তালিবানের দাবি, ওই ঘাঁটিগুলি আফগানিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামিক স্টেট এবং আফগান তালিবানের মধ্যে সংঘাত চলছে। আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠিত আইএসকেপি পরবর্তীতে তালিবানের নীতির সঙ্গে মতভেদে আলাদা হয়ে যায়। এরপর থেকেই তালিবান সংগঠনটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের শক্তি অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আরও দাবি, তালিবানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর ইসলামিক স্টেট পাকিস্তানের কাছাকাছি আসে। অন্যদিকে পাকিস্তানও তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো গোষ্ঠীগুলির মোকাবিলায় ইসলামিক স্টেটকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।



















