কৈলাসহর, ২০ জুন : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার ফুলতলী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কৈলাসহর থানার অন্তর্গত ফুলতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ময়ূর চাঁদ সিনহা পেশায় রাজমিস্ত্রি। অপরদিকে, একই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিলোদ্দজ সিনহা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী। দুইজন সম্পর্কে আপন ভাই। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জমি-সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ফুলতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৃদুল সিনহার বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই ছোট ভাই নিলোদ্দজ সিনহা বড় ভাই ময়ূর চাঁদ সিনহার বাড়িতে এসে তর্কাতর্কি শুরু করেন। সে সময় বাড়িতে ময়ূর চাঁদ সিনহার স্ত্রী ও ছেলে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে নিলোদ্দজ সিনহা ধারালো ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে বাধা দিতে গিয়ে ময়ূর চাঁদ সিনহার ছেলে গুরুতর জখম হন। পরে ময়ূর চাঁদ সিনহার গলায় ছুরির আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
এর কিছুক্ষণ পরেই নিলোদ্দজ সিনহাকেও রক্তাক্ত অবস্থায় বড় ভাইয়ের মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে কৈলাসহর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ অফিসার জনুয়া হালামের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধাম্বিকা আর নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে দুই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত ময়ূর চাঁদ সিনহার ছেলেকে উনকোটি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বড় ভাইকে হত্যার পর ছোট ভাই নিলোদ্দজ সিনহার মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
জমি-সম্পত্তি নিয়ে দুই সহোদরের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা কৈলাসহর মহকুমা জুড়ে শোক ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।



















