সুরাট, ২০ জুন (আইএএনএস): গুজরাটের সুরাট শহরে মাদক পাচার বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। সুরাট সিটি পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) আদাজন এলাকা থেকে ১৭.৩৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৯৭ গ্রাম নিষিদ্ধ হাইব্রিড গাঁজা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শনিবার পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। তথ্য পাওয়ার পর ১৮ জুন সন্ধ্যায় আদাজনের সার্কাস রোডের শিলালেখ অ্যাপার্টমেন্টের কাছে নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়।
অভিযানের সময় দুই চাকার যানবাহনে যাতায়াতকারী রাভিরাজ মারভানিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি সুরাটের চৌক বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং মূলত জুনাগড় জেলার বাসিন্দা। পেশায় তিনি হিরে শিল্পের কারিগর।
স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে সন্দেহজনক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) এক কর্মকর্তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে উদ্ধার হওয়া পদার্থটি হাইব্রিড গাঁজা।
পুলিশ ৪৯৭ গ্রাম হাইব্রিড গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও অভিযুক্তের কাছ থেকে ১৭,২০০ টাকা নগদ, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি দুই চাকার যান এবং ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, মোবাইল ফোনটিতে আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত দুটি সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছিল। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ ৪১ হাজার ৭০০ টাকা।
পুলিশি জেরায় মারভানিয়া দাবি করেছেন, তিনি কাটারগাম এলাকার পার্থ ওরফে ‘এ.টি.’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা সরবরাহ করতে যাওয়ার সময় ধরা পড়েন।
পুলিশ ওই সরবরাহকারীকে পলাতক ঘোষণা করেছে এবং তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
সুরাট পুলিশ জানিয়েছে, শহরে মাদক পাচার ও মাদক বণ্টন রুখতে পুলিশ কমিশনার অনুপম সিং গেহলটের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘নো ড্রাগস ইন সুরাট সিটি’ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসওজি-র পুলিশ পরিদর্শক জে. এম. পারমারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আদাজন থানায় এনডিপিএস আইন এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (এসওজি) রাজদীপসিং নাকুমের তত্ত্বাবধানে ঘটনার আরও তদন্ত চলছে।



















