গুয়াহাটি, ১৮ জুন (আইএএনএস) : অসমে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জাপানি এনকেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট ৩৫টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম), অসম। একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে অ্যাকিউট এনকেফালাইটিস সিনড্রোম(এইএস) এবং জাপানি এনসেফালাইটিস(জেই) দুটি পৃথক চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক অবস্থা, তাই এগুলিকে একসঙ্গে বা সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
সম্প্রতি কিছু প্রতিবেদনে এইএস এবং জেই-এর পরিসংখ্যান একত্রে প্রকাশ হওয়ায় রাজ্যে রোগের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই এনএইচএম অসমের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
এনএইচএম জানিয়েছে, জাপানি এনসেফালাইটিস অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোমের একটি কারণ হলেও সব এইএস রোগী জেই-তে আক্রান্ত নন। জনসাধারণের কাছে রোগ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে এই দুই রোগের তথ্য পৃথকভাবে প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অসমে মশাবাহিত এই রোগে ৩৫টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং সাতটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশিত ৪৭০টি আক্রান্তের ঘটনা এবং ৩২টি মৃত্যুর পরিসংখ্যান আসলে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোম (এইএস)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলিকে জাপানি এনসেফালাইটিসের আক্রান্ত বা মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে এনএইচএম।
এনএইচএমের এক কর্মকর্তা বলেন, এইএস এবং জেই-এর তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য না করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। জেই, এইএস-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও দুটি এক নয়।
এদিকে বর্ষাকালকে সামনে রেখে, যখন সাধারণত এইএস ও জেই-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তখন রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন জেলায় রোগ পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাকরণ কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
এনএইচএম অসম সংবাদমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীদার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আবেদন জানিয়েছে যে, তারা যেন শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্যের উপর নির্ভর করেন এবং এইএস ও জেই-এর পরিসংখ্যান পৃথকভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে ভুল তথ্য ও অযথা আতঙ্ক এড়ানো যায়।
























