বেতুল (মধ্যপ্রদেশ), ১৮ জুন (আইএএনএস): আদিবাসী যুবসমাজের কাছে আধুনিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ক্ষমতায়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে হবে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য যেন ক্ষুণ্ণ না হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায় এই বার্তাই দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
বেতুলের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে ব্রহ্মাকুমারীদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আধ্যাত্মিক জাগরণের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক অনন্য সভ্যতাগত জ্ঞান ও মূল্যবোধ রয়েছে, যা আধ্যাত্মিকতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতে তাদের যুক্ত করার পাশাপাশি এই ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
হাজার হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য, আধ্যাত্মিক নেতা এবং সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আদিবাসী যুবকদের প্রযুক্তি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ক্ষমতায়নের এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কখনও ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের বিনিময়ে হতে পারে না। “উন্নয়ন ও সংস্কৃতির মধ্যে ভারসাম্যই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সমাজের ভিত্তি। প্রকৃত উন্নয়ন সেইটিই, যা আমাদের ঐতিহ্য ও মূল মূল্যবোধের শিকড়কে আরও দৃঢ় করে,” মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, আদিবাসী সমাজ ঐতিহাসিকভাবে প্রকৃতির সঙ্গে এক সুরেলা সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। পরিবেশগত সংকটের এই সময়ে তাদের জীবনদর্শন ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বিশ্বজনীন কল্যাণের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান সমাজে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্রমবর্ধমান ভোগবাদ ও আধুনিক জীবনের চাপের মধ্যে আধ্যাত্মিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা সমতা, নৈতিক আচরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি সংবেদনশীল জীবনযাপন গড়ে তুলতে সহায়ক।
আদিবাসী সমাজের মধ্যে আধ্যাত্মিক জাগরণ, নারী ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, নেশামুক্তি অভিযান এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য তিনি ব্রহ্মাকুমারীদের প্রশংসা করেন।
বেতুল জেলার সমৃদ্ধ আদিবাসী ঐতিহ্যের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই অঞ্চলে সহযোগিতা, সরলতা, সততা এবং সমষ্টিগত জীবনযাপনের যে সংস্কৃতি আজও টিকে রয়েছে, তা টেকসই উন্নয়নের এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
দেশ গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশ রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।



















