আগরতলা, ১৭ জুন: পূর্ব আগরতলা থানায় এক যুবককে থানার ভেতরে যৌন হেনস্তার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ত্রিপুরা উচ্চ আদালত। মামলার শুনানিকালে আদালত রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া হলফনামা বাতিল করে নতুন করে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আন্ডার সেক্রেটারির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সৈকত দেবনাথ নামে এক যুবককে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে আসার পর থানার ভেতরে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হলে তদন্তভার দেওয়া হয় ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-কে।
সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, থানার ভেতরেই সৈকত দেবনাথ যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। এই ঘটনায় আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
শুনানিকালে আদালত বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলে, কীভাবে দুই বহিরাগত ব্যক্তি থানার মতো সুরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করে একজন ব্যক্তিকে যৌন হেনস্তা করতে সক্ষম হলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনাটি যদি সত্যিই পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়টিও গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এদিন আদালত রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া হলফনামা গ্রহণ না করে তা বাতিল করে দেয় এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিয়ে নতুন হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দেয়।
মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন বলেন, থানার ভেতরে যৌন নির্যাতনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থার জন্য তা গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য সরকারের নতুন হলফনামা এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।



















