লখনউ, ২ আগস্ট (আইএএনএস): দলবিরোধী কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী রবিবার প্রাক্তন সাংসদ অশোক সিদ্ধার্থকে দ্বিতীয়বারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে দলের প্রবীণ নেতা রণধীর সিং বেনিওয়ালকেও অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মায়াবতী জানান, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের কারণে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অশোক সিদ্ধার্থ হলেন মায়াবতীর ভাইপো তথা বিএসপির জাতীয় আহ্বায়ক আকাশ আনন্দের শ্বশুর। গত বছর আকাশ আনন্দকে জাতীয় আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়ে কার্যত দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বে তুলে এনেছিলেন মায়াবতী।
মায়াবতী জানান, এর আগেও দলীয় টিকিট বণ্টিতে অনিয়ম এবং মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের সময় রাজ্য সভাপতির সঙ্গে সমন্বয় না রাখার অভিযোগে অশোক সিদ্ধার্থকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরপ্রদেশে নয়, অন্য রাজ্যে সংগঠন সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় এবার তাঁকে ভবিষ্যতে কোনও অবস্থাতেই দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিএসপি প্রধান।
এদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ রামজি গৌতমকে পুনরায় পাঞ্জাবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করবেন।
মায়াবতী আরও জানান, দলের বর্তমান নীতি অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশের যে কোনও জ্যেষ্ঠ পদাধিকারী বা সমন্বয়কারী যদি বর্তমানে অন্য রাজ্যে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁকে উত্তরপ্রদেশে কোনও দলীয় দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়ে বলেন, উত্তরপ্রদেশে বিএসপি সরকার গঠনের লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে এমন ‘ষড়যন্ত্রকারী ও দুষ্টচক্রের’ বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবারই মায়াবতী স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দলের সমস্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তিনি নিজেই, তাঁর ভাইপো আকাশ আনন্দ নন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বিএসপির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখনও তাঁর হাতেই রয়েছে। (আইএএনএস)


















