নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করে ভারত ও কেনিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো-র সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
জি-৭ সম্মেলনে অংশীদার দেশ হিসেবে আমন্ত্রিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকের পর বলেন, “কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত। আমাদের দুই দেশই জনগণের কল্যাণ এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ভারত ও কেনিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস বহু পুরনো। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কেনিয়ায় বসবাসকারী ৮০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সম্প্রদায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বছরের পর বছর ধরে বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।
পূর্ব আফ্রিকায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার কেনিয়া। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ভারত কেনিয়ায় ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও মোটরগাড়ি রপ্তানি করে, আর কেনিয়া থেকে চা, কফি এবং চামড়াজাত পণ্য আমদানি করে।
উন্নয়নমূলক সহযোগিতাও ভারত-কেনিয়া সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কেনিয়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্পে ভারত ঋণ সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট রুটো দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছেন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল, যখন জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং ন্যায্য বাণিজ্য নীতির মতো বিষয়গুলিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার লক্ষ্যে ভারত ও কেনিয়া একযোগে কাজ করছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ কেনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে ভারত আগ্রহী। এই বৈঠক ভারত-আফ্রিকা সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
_______
























