জাতিসংঘ, ১৭ জুন (আইএএনএস): জাতিসংঘ সনদ ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে ‘আশা’র প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ। জাতিসংঘ সনদের প্রস্তাবনায় প্রতীকী স্বাক্ষর করার পর তিনি ভারতের পক্ষ থেকে সনদের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
২৬ জুন পালিতব্য জাতিসংঘ সনদ দিবসের আগে আয়োজিত এই প্রতীকী স্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সনদের মূলনীতি ও উদ্দেশ্যের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করা।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর পি. হরিশ বলেন, “ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের কাছে জাতিসংঘ সনদের তাৎপর্য এক কথায় ‘উম্মীদ’ বা আশা।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি অ্যানালেনা বেয়ারবক এই প্রতীকী স্বাক্ষর উদ্যোগের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এটি “জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের পুনর্নবীকৃত প্রকাশ।”
১৯৪৫ সালের ২৫ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতা এ. রামাস্বামী মুদালিয়ার ভারতের পক্ষে মূল জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন।
তৎকালীন সময়ে ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকলেও স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে ছিল। সেই অবস্থাতেই ভারত জাতিসংঘের ৫০টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশের অন্যতম হিসেবে সনদে স্বাক্ষর করে।
ভারতের এই অংশগ্রহণ স্বাধীনতার আগেই বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতির প্রতি তার অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছিল এবং জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়।
এ বছরের সনদ দিবস উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় সনদের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সনদ স্বাক্ষরের ৮১ বছর পরে আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। জাতিসংঘ শুধু রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপের মধ্যেই নেই, বরং নানা দিক থেকে আক্রমণেরও মুখে পড়েছে।”
এতে আরও বলা হয়, “তাই এ বছরের জাতিসংঘ সনদ দিবস শুধুমাত্র অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং এটি একটি কর্মসূচির আহ্বান।”























