নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইছি। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বার্তা দেন।
জি-৭ সম্মেলনে অংশীদার দেশ হিসেবে আমন্ত্রিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকটিকে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা” বলে উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা ২০১৪ সালে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব’-এর মর্যাদা পায়। গত এক দশকে পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্প এবং বিভিন্ন শিল্প করিডর নির্মাণে জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে টোকিও নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল, যখন আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উভয় দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ভারত-জাপান সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জাপান ভারতের বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম এবং দেশটির মোট বিনিয়োগ ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্যকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা উৎপাদনসহ উদীয়মান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারতের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন জুগিয়ে আসা এবং দেশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভারত বদ্ধপরিকর।
এই বৈঠকের ফলে আগামী মাসগুলিতে ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
_______


















