নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ১১ জুন: ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ এবং মানব পাচার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুরাইবাড়ি থানাধীন লক্ষীনগর গ্রামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দীপন দাসকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার রাতে সরব হন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ লক্ষীনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে মোঃ হারুন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। তার বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার পকিয়া গ্রামে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত দীপন দাস ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এনে ভিন্ন পরিচয়ে দীর্ঘদিন নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরিতেও সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচার এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথিপত্র তৈরির কাজে একটি চক্র সক্রিয় ছিল এবং দীপন দাস তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীপন দাস একসময় জেলা আদালতে মুহুরীর কাজ করতেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভুয়ো নথিপত্র তৈরির ব্যবস্থা করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নথিপত্র তৈরির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো এবং সেই অর্থ পরবর্তীতে অসমের শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগর এলাকায় ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হতো।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, একসময় আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা দীপন দাস অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা প্রশ্ন ও জল্পনা ছিল।
বুধবার রাতে লক্ষীনগর গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, চুরাইবাড়ি থানার পুলিশের উপর আস্থা থাকলেও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্ত দীপন দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।



















