জয়পুর, ১১ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সভাপতিত্বে নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে রাজস্থানের উন্নয়ন-ভিশন, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা।
‘বিকশিত ভারত-২০৪৭’-এর জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী ‘বিকশিত রাজস্থান-২০৪৭’ রূপরেখা উপস্থাপন করেন। যুবশক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন এবং সুশাসনকে ভিত্তি করে রাজস্থানকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
ভজনলাল শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবন, সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে। সেই লক্ষ্য পূরণে রাজস্থানও সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৩ শতাংশই যুবক-যুবতী। তাই যুবশক্তিকেই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাজ্যে ৩৫টিরও বেশি নতুন নীতি চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ৯ লক্ষ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের শিলান্যাস সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৯ এমএমটিপিএ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক তেল শোধনাগার স্থাপনকে শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে রাজস্থানকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধির হার ১০.২৪ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর ‘মাই ভারত’ উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশগঠনের কাজে যুবসমাজকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে রাজস্থানে এই কর্মসূচিতে ১৮ লক্ষ যুবক-যুবতী নিবন্ধিত, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কৃষিক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার কৃষকদের শুধু ‘অন্নদাতা’ নয়, ‘উর্জাদাতা’ এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা-র আওতায় ২.১৯ কোটি বিমা পলিসি এবং পিএম-কুসুম প্রকল্পের অধীনে ৭২৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪৯৬টি সৌর প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে রাজস্থান দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে ‘লখপতি দিদি’ এবং ‘ড্রোন দিদি’ প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনা-র বাস্তবায়নে টানা দুই বছর ধরে রাজস্থান দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মাত্রু বন্দনা যোজনা-তেও রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সুশাসনের ক্ষেত্রে তিনি জানান, ‘রাজ উন্নতি’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৪২টি বড় প্রকল্পের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘সম্পর্ক পোর্টাল’-এর মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির গড় সময় ২৮ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে আনা হয়েছে এবং ৯৮ শতাংশেরও বেশি অভিযোগের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘গ্রাম বিকাশ চৌপাল’ এবং ‘গ্রাম বিকাশ রথ’-এর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ২ কোটি মানুষের কাছে এই কর্মসূচির বার্তা পৌঁছেছে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য শেখাওয়াটি হাভেলি সংরক্ষণ প্রকল্প-এর আওতায় ঝুনঝুনু, চুরু ও সিকার জেলার ৬৬০টিরও বেশি ঐতিহ্যবাহী হাভেলিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানের অধীনে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ কোটি চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সুশাসন এবং টেকসই অগ্রগতির ভিত্তিতে রাজস্থানের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনে রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















