নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): বায়োফুয়েল মিশন, গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং ‘সমুদ্র মন্থন’-এর মতো রূপান্তরমূলক উদ্যোগ ভারতকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
রবিবার তিনি বলেন, ভারতের টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল বায়োফুয়েল। এটি যেমন কৃষকদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে, তেমনই আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও নতুন গতি আনছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অঙ্গীকার ভারতকে বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত আজ পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জ্বালানি রূপান্তরের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের কর্মসূচির ফলে ৩১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রয়োজন কমেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় ১.৯০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের অতিরিক্ত আয় হয়েছে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং ৯৩০ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮.৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি দেশের উপর প্রভাব ফেলে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আখ, ভুট্টা ও ধান থেকে তৈরি ইথানল এই নির্ভরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের স্থাপিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৭৬.৩৮ গিগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়ে ২৮৮.৫৮ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে সৌরশক্তি সর্বাধিক, যার স্থাপিত ক্ষমতা ১৬২.১৫ গিগাওয়াট। এরপর রয়েছে বায়ুশক্তি ৫৭.৪৪ গিগাওয়াট, জলবিদ্যুৎ ৫৭.২৪ গিগাওয়াট এবং বায়ো-পাওয়ার ১১.৭৫ গিগাওয়াট।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী শ্রিপদ ইয়েসো নাইক রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২৯৭.৩৬ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৮.৫৮ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ৮.৭৮ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত।



















