নয়াদিল্লি, ১১ জুন (আইএএনএস): মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, পরীক্ষায় দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের প্রেক্ষিতে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগামী তিন মাসের জন্য দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে দলের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই কর্মসূচির কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপাল।
তিনি বলেন, “আগামী তিন মাস ধরে আমরা দেশব্যাপী আন্দোলন চালাব। কংগ্রেসের প্রতিটি নেতা ও কর্মীকে মাঠে নেমে মানুষের মধ্যে যেতে হবে।”
এদিন সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে বলেন, “আজ দেশ মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি। নিট এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের আস্থা নষ্ট করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর দেশের সামনে তুলে ধরেছেন।”
খাড়্গে অভিযোগ করেন, “যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে কয়েক দশক সময় লেগেছিল, আজ সেগুলিকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। তাই আমাদের দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষা করাও।”
মধ্যপ্রদেশ থেকে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজন-এর রাজ্যসভা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রসঙ্গে ভেনুগোপাল বলেন, “মধ্যপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডে যা ঘটেছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। মীনাক্ষী নটরাজনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই, এফআইআর নেই, চার্জশিট নেই। তবুও আদালতের একটি নোটিশের উল্লেখ না থাকার অজুহাতে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ঝাড়খণ্ডে বিজেপি-সমর্থিত এক কর্পোরেট প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বিদেশনীতি নিয়েও সরব হন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত চলতেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী? তিন জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। তারপরও আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থান অস্পষ্ট।”
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অত্যন্ত আগ্রহ দেখানো হচ্ছে, যা ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”



















