নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ভগবান রামকে নিয়ে করা কথিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় নতুন মোড়। বারাণসীর বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবিতে করা অভিযোগ পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (এমপি-এমএলএ) যজুভেন্দ্র বিক্রম সিং আইনজীবী হরিশঙ্কর পাণ্ডের দায়ের করা ফৌজদারি পুনর্বিবেচনা (ক্রিমিনাল রিভিশন) আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (এসিজেএম) আগের নির্দেশ খারিজ করে দেন, যেখানে অভিযোগটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে খারিজ করা হয়েছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে অভিযোগকারীকে শুনানির সুযোগ না দিয়েই ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি খারিজ করেছিলেন। তাই বিষয়টি আইন অনুযায়ী নতুন করে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিশেষ আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যে মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছিল, সংসদের ভেতরে নয়। ফলে বিষয়টি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) অনুযায়ী যথাযথ বিচারিক বিবেচনার দাবি রাখে।
অভিযোগকারী হরিশঙ্কর পাণ্ডে এসিজেএম আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে লোকসভার সদস্য এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অনুমোদন প্রয়োজন।
পাণ্ডের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থিত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনাসভায় রাহুল গান্ধী ভগবান রামকে “পৌরাণিক এবং কাল্পনিক চরিত্র” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তাঁর দাবি, এই মন্তব্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬, ৩৫১ এবং ৩৫৩ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে। অভিযোগকারীর মতে, এই মন্তব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সামাজিক বিভেদ উসকে দেওয়ার সামিল।
বিশেষ আদালত পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করে এসিজেএমের আগের নির্দেশ বাতিল করেছে এবং অভিযোগটি আইন অনুযায়ী নতুন করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে এসিজেএম আদালত অভিযোগটি খারিজ করে জানিয়েছিল যে লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন ছাড়া কোনও বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সেই নির্দেশের পর অভিযোগকারী হরিশঙ্কর পাণ্ডে জানিয়েছিলেন যে তিনি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহের উদ্যোগ নেবেন।
মূল অভিযোগপত্রে কেবল রাহুল গান্ধী নন, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সংগঠনকেও (এআইসিসি) পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি, দলের শীর্ষ নেতার কথিত মন্তব্যের দায় থেকে কংগ্রেসও নিজেদের সম্পূর্ণভাবে আলাদা করতে পারে না।
________
























