নয়াদিল্লি, ৯ জুন : দেশের বিরোধী রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘটনায় মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং আগামী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শরিক দলগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত সামনে এসেছে। দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ও বিরোধিতার আবহে বিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রয়াস হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলটির ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই গোষ্ঠী এনডিএ-কে সমর্থন করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে বলে সূত্রের খবর।
আরও জানা গেছে, বুধবার লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের গোষ্ঠীকেই “প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাতে পারেন কাকলি দস্তিদার। বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ১৭ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় বৈধ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন তাদের নেই।
তবে বৈঠক শেষে কংগ্রেস বা তৃণমূল কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে একাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধীর পাশাপাশি রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



















