বিলোনিয়া, ৯ জুন: বিলোনিয়া রেল স্টেশনে গাঁজাসহ আটক এক যুবককে ঘুষের বিনিময়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় বিলোনিয়া থানার এসআই প্রেমজিৎ রায়, পুলিশের আইবি কর্মী নেপাল নমঃ এবং জিআরপি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শী অটোচালক ও স্থানীয়রা। যদিও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে বিলোনিয়া রেল স্টেশন এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে টিআর০৭_জি_০২২৬৭ নম্বরের একটি গাড়িকে আটক করে জিআরপি পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাগ থেকে কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এসময় গাড়িতে থাকা তিনজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজন যুবককে গাঁজাসহ আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আটক করার প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বিলোনিয়া থানার একটি গাড়িতে করে সাধারণ পোশাকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসআই প্রেমজিৎ রায় এবং আইবি কর্মী নেপাল নমঃ। পরে আটক যুবক ও উদ্ধার হওয়া গাঁজা জিআরপি থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের থানার ওই কক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, “কিছুই হয়নি”।
অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর এসআই প্রেমজিৎ রায়, আইবি কর্মী নেপাল নমঃ এবং জিআরপি-র কয়েকজন কর্মী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আটক যুবকটি থানার ভেতর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় অটোচালক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই ওই যুবককে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি যুবকের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কয়েকজন সাংবাদিকের ক্যামেরায়ও ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিলোনিয়া থানার এসআই প্রেমজিৎ রায় বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি পরিবারকে স্টেশনে নামিয়ে দিতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” অপরদিকে আইবি কর্মী নেপাল নমঃ-ও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রেল স্টেশন এলাকায় গাঁজাসহ কাউকে আটক করা হলে বিষয়টি জিআরপি পুলিশের আওতাধীন হওয়ার কথা। সেই ক্ষেত্রে বিলোনিয়া থানার কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিআরপি পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























