ঢাকা, ৯ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেছেন, তারিক রহমান-নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই খুন, অপহরণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সোমবার সংসদে জরুরি জনস্বার্থে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আজ তাঁর এখানে থাকার কথা ছিল, কিন্তু তাঁর আসন খালি। আমি আর কী করতে পারি? তাঁর অনুপস্থিতিতেই আমাকে কথা বলতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
রুমিন আরও বলেন, এই সময়ে ১২৯টি ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা হয়েছে এবং ২,২১৪টি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, উক্ত সময়ে মোট ৩,৪৯৬টি নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২টি ধর্ষণ, ৩০ থেকে ৩৬টি গণধর্ষণ এবং ৪৯ থেকে ৭১টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।”
রুমিন ফারহানার মতে, একটি সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা বিচার করার প্রধান দুটি সূচক হল অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তাঁর ব্যর্থতাগুলি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যেত।”
এদিকে গত সপ্তাহে ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) দেশের জননিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সংগঠনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে পৃথক পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫৩টি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৬৯টি পৃথক ঘটনায় ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে এপ্রিল মাসে ২১ জনের মৃত্যু এবং ৪৯ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
এমএসএফ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, “মে মাসে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ২১ থেকে বেড়ে ৩২-এ পৌঁছেছে, যা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।”
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৯ জন এবং ডিসেম্বর ২০২৫-এ ১০ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিলেন।
মে মাসে নিহত ৩২ জনের মধ্যে ১৪ জনকে চুরির অভিযোগে, চার জনকে বিবাদের জেরে, এবং দু’জন করে ডাকাতি ও ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



















