পাটনা, ৯ জুন (আইএএনএস): কোচিং সেন্টারে গুলিচালনার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান তথা ‘খান স্যার’-কে বড় স্বস্তি দিল পাটনার একটি আদালত। মঙ্গলবার জেলা বিচারকের আদালত তাঁর গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
সোমবার অগ্রিম জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। মঙ্গলবার সেই রায় ঘোষণা করে আদালত জানায়, আপাতত খান স্যারের বিরুদ্ধে কোনও রকম জবরদস্তিমূলক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।
তবে আদালত এখনও তাঁর অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করেনি। মামলার তদন্তকারী সংস্থার কাছে কেস ডায়েরি এবং খান স্যারের অপরাধমূলক অতীত সংক্রান্ত তথ্যও তলব করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
অগ্রিম জামিনের আবেদন বিবেচনার সময় কেস ডায়েরি এবং অভিযুক্তের অপরাধ সংক্রান্ত নথি চাওয়া বিচার প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
জামিনের আবেদন এখনও বিচারাধীন থাকলেও গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ পাওয়ায় খান স্যার আপাতত বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছেন। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পুলিশি পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশের পর খান স্যারের আইনজীবী অরবিন্দ কুমার মাহুয়ার বলেন, “আদালত গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। ফলে এখন তিনি স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।”
গত ২ জুন রাতে পাটনায় খান স্যারের পরিচালিত ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ কোচিং প্রতিষ্ঠানে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার জেরে এই মামলার সূত্রপাত।
ঘটনার পর পুলিশ ‘জ্ঞান বিন্দু কোচিং ইনস্টিটিউট’-এর মালিক রোশন আনন্দকে গ্রেফতার করে এবং তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় হামলার সময় কোচিং সেন্টারের বাইরে দুই নিরাপত্তারক্ষী আকাশের দিকে গুলি ছুড়ছেন বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ ওই দুই নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেফতার করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে খান স্যারের নামও মামলায় যুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে খান স্যার পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাঁর কোচিং সেন্টারেও গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং আগামী ৩০ জুন আদালতে বিষয়টির পুনরায় শুনানি হবে।
______























