পুনে, ৬ জুন (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের পুনের খড়ক পুলিশ স্টেশনে এক মদ্যপ যুবকের তাণ্ডবের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওই যুবক পুলিশকর্মীদের মারধর করেন, ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের ধাক্কা দেন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
অভিযুক্তের নাম রোহন গৌতম সালভে (২৬)। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), মহারাষ্ট্র পুলিশ আইন এবং মহারাষ্ট্র মদ্যনিষেধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জুন রাতে কনস্টেবল চন্দ্রশেখর শরণাপ্পা হুঞ্চালগি এবং তাঁর সহকর্মী সাগর কান্দিলকর ফড়গেট পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ‘মার্শাল’ ডিউটিতে ছিলেন। তাঁরা এলাকায় টহল দেওয়ার পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম থেকে আসা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন।
৫ জুন রাত প্রায় ২টার সময় কন্ট্রোল রুমে খবর আসে যে তিলক রোডের জয়শ্রী হোটেল নির্ধারিত সময়ের পরেও খোলা রয়েছে। খবর পেয়ে দুই পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, এক যুবক এক মহিলার সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, ওই যুবক মোবাইল ফোনে মহিলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। মহিলা আপত্তি জানালে তিনি তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাঁদের সঙ্গেও বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
নিজের পরিচয় রোহন গৌতম সালভে বলে জানান অভিযুক্ত। তিনি পুনের গুলটেকডি এলাকার বাসিন্দা। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খড়ক পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর মুখ থেকে তীব্র মদের গন্ধ বের হচ্ছিল এবং তিনি অত্যন্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। পুলিশকে সহযোগিতা করতেও অস্বীকার করেন।
রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটে সেক্টর নাইট পেট্রোলিংয়ে থাকা সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর শশীকান্ত চাভান থানায় পৌঁছন। পুলিশকর্মীরা তাঁকে পুরো ঘটনা জানান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত নাকি তাঁকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আপনি আমার কীই বা করতে পারবেন?”
পুলিশের অভিযোগ, ইন্সপেক্টর চাভান যখন অভিযুক্ত মদ্যপ কিনা তা যাচাই করার চেষ্টা করছিলেন, তখন সালভে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের দিকে থুতু ছুড়তে শুরু করেন। তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তিনি কনস্টেবল হুঞ্চালগির কলার চেপে ধরেন, তাঁর ডান হাত মুচড়ে দেন এবং পায়ে লাথি মেরে আহত করেন।
এরপর তিনি ইন্সপেক্টর শশীকান্ত চাভান, হাভালদার তুলসুলকর ও মোদক, কনস্টেবল সালুঙ্খে, কান্দিলকর-সহ একাধিক পুলিশকর্মীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, তিনি হাত-পা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং ক্রমাগত গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন।
পুলিশের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় অভিযুক্ত বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৩০৭ ধারার মামলা রয়েছে। তোমাদের শেষ করতে আমার বেশি সময় লাগবে না।”
সিনিয়র ইন্সপেক্টর চাভানকে উদ্দেশ্য করে তিনি নাকি আরও বলেন, “তুমিই কি এখানকার সিনিয়র পিআই? আমি বোরখা পরে বা অন্য ছদ্মবেশে ফিরে এসে তোমাকে টুকরো টুকরো করে দেব। কাস্তে বা চাপাতি দিয়ে কেটে ফেলব। আদালত বা মামলা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। আগেও ৩০৭ ধারার মামলা হয়েছে, পুলিশ আমার কিছুই করতে পারেনি।”
শেষ পর্যন্ত পুলিশকর্মীরা তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সাসুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টে তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য তাঁর রক্তের নমুনাও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আহত কনস্টেবল চন্দ্রশেখর হুঞ্চালগিরও চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সালভের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২১(১), ১৩২, ৩৫১(৩) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া মহারাষ্ট্র পুলিশ আইন, ১৯৫১-এর ১১২ ও ১১৭ ধারা এবং মহারাষ্ট্র মদ্যনিষেধ আইন, ১৯৪৯-এর ৮৫ ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
খড়ক থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর শশীকান্ত চাভান জানান, এর আগেও রাজগড় থানায় এক পুলিশ আধিকারিকের মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে সালভের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, আদালত অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে, যার মেয়াদ ৭ জুন শেষ হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের অপরাধমূলক অতীত এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















