মুম্বই, ৩ জুন (আইএএনএস): টেলিভিশন জগতের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং রাতভর শুটিংয়ের বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কিশোরী শাহানে। তাঁর মতে, টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও সময়ের প্রতি অঙ্গীকারকে মেনে নিতেই হয়।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোরী শাহানে বলেন, টেলিভিশনে প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট সম্প্রচারের চাপ থাকায় অভিনেতাদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। অনেক সময় প্রযোজনাগত বিলম্ব বা শিডিউল সংক্রান্ত সমস্যার কারণে রাতভর শুটিংও অনিবার্য হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, “টেলিভিশন সবসময়ই কঠোর পরিশ্রম দাবি করে। আগে সিরিয়াল সপ্তাহে একদিন সম্প্রচারিত হতো, পরে পাঁচ দিন, আর এখন অনেক অনুষ্ঠান প্রতিদিন দেখানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই কাজের চাপও বেড়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হতে চাইলে সেই দায়বদ্ধতা মেনে নিতেই হবে।”
অভিনেত্রী আরও জানান, “টেলিভিশনের শিল্পীরা নিয়মিতভাবে দর্শকদের জন্য কনটেন্ট তৈরি করতে নিরলস পরিশ্রম করেন। দীর্ঘ শিফট খুবই সাধারণ বিষয়। কখনও কখনও শুটিংয়ে দেরি বা সময়সূচির সমস্যার কারণে রাতভর কাজ করতেও হয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা।”
বিগত কয়েক দশকে টেলিভিশন জগতের পরিবর্তন সম্পর্কেও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। তাঁর মতে, গল্প বলার ধরন এবং অভিনয়ের শৈলীতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
‘শক্তি-অস্তিত্ব কে এহসাস কি’-খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, “আগে দৃশ্যগুলো অনেক দীর্ঘ এবং আবেগঘন হতো। এখন ডিজিটাল মাধ্যম ও দর্শকদের দেখার অভ্যাস বদলে যাওয়ায় দৃশ্যগুলো ছোট, দ্রুতগতির এবং সংক্ষিপ্ত হয়েছে। আগে দিনে হয়তো কয়েকটি দীর্ঘ দৃশ্যে অভিনয় করতে হতো, এখন অনেক ছোট ছোট দৃশ্য করতে হয়। এতে অভিনয়ে আলাদা ছন্দ ও স্বাদ আসে। অভিনেতাদের জন্যও এটি উপভোগ্য, আবার দর্শকদেরও আগ্রহ ধরে রাখে।”
উল্লেখ্য, কিশোরী শাহানে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক কোহি আপনা সা, শক্তি–অস্তিত্ব কে এহসাস কি এবং ইশক মে মারজাওয়ান-এ অভিনয়ের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন।
২০১৯ সালে তিনি বিগ বস মারাঠি ২-এ অংশগ্রহণ করে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেছে ঘুম হ্যায় কিসিকে পেয়ার মেইন এবং ক্যাসে মুঝে তুম মিল গয়ে ধারাবাহিকে।
_______



















