আগরতলা, ৩ জুন : সেকেরকোট এলাকার এক নাবালিকা মেয়েকে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। আমতলী থানার ওসি ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস সাংবাদিকদের সামনে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সেকেরকোট এলাকার এক নাবালিকার পরিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, জয়দেব দেবনাথ নামে এক যুবক পিস্তলের ছবি দেখিয়ে নাবালিকাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে আমতলী থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নাবালিকার মোবাইল ফোনসহ অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথ, নাবালিকার বোনের জামাই এবং তার মামাতো ভাইয়ের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পিস্তলের ছবিগুলি জয়দেব দেবনাথ পাঠাননি। বরং নাবালিকার বোনের জামাইয়ের মামাতো ভাই ইন্টারনেট থেকে ছবি ডাউনলোড করে সেগুলি পাঠিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্ত চলাকালীন সময়ে নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, পিস্তল সংক্রান্ত অভিযোগের মতো গুরুতর বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোনগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওসি পরিতোষ দাস জানান, প্রাথমিক তদন্তে নাবালিকার বোনের জামাইয়ের মামাতো ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারিও করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


















