নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস বাংলা): জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই হামলার তদন্তকারী সংস্থা জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী Hamas-এর কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে অনুসন্ধান করবেন, পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর সঙ্গে হামাসের কোনও কার্যকরী, আর্থিক বা মতাদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে কি না। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আল-কায়েদা-র কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, অতীতে পাকিস্তানে একাধিক হামাস নেতার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল বলেও গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
এক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা আধিকারিকের মতে, যদি এই সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা স্পষ্ট করবে যে পাকিস্তানের আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ভারতের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, হামাস এবং আল-কায়েদার যুদ্ধকৌশল ও অপারেশনাল সক্ষমতা লস্কর বা জইশের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। হামাস দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে থাকায় তাদের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা অনেক বেশি।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, আইএসআই চায় তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি ভবিষ্যতে এমন হামলা চালাক, যা হামাসের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের ধাঁচে হবে। এতে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, পাহেলগাঁও হামলার আগে এবং পরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) হামাস, লস্কর এবং জইশ নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকের তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার প্রায় তিন মাস আগে পাকিস্তানে আয়োজিত একটি জনসভায় হামাস নেতাদের লস্কর ও জইশ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল বলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
এনআইএ এখন হামলার পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করছে। প্রাথমিক তদন্তে পাহেলগাঁও হামলার কৌশল এবং হামাসের ব্যবহৃত কিছু হামলা-পদ্ধতির মধ্যে নির্দিষ্ট মিল পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর-এর পর পাকিস্তান সরাসরি সংঘর্ষের বদলে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে চাইছে। সেই প্রেক্ষাপটে হামাসের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাকিস্তান-সমর্থিত সংগঠনগুলির সম্ভাব্য যোগাযোগ ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।



















