নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস): কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম-এর সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে অভিযান আরও জোরদার করেছে ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ও নিরাপত্তা সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, বয়সজনিত সমস্যা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার খবর সামনে এলেও দাউদ এখনও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করছে এবং ভারতবিরোধী সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, দাউদের অপরাধচক্র এখনও মাদক পাচার, জাল নোট চক্র এবং সুপারি কিলার নেটওয়ার্ক পরিচালনার মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চক্রের বিস্তৃত প্রভাব বজায় আছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নির্দেশে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই), পুলিশ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে দাউদ চক্রের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, “লক্ষ্য হল দাউদ নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ পদ্ধতিগতভাবে স্তব্ধ করা এবং ভারতের মাটিতে তাদের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে শেষ করা।”
তদন্তকারীদের মতে, বর্তমানে দাউদ চক্রের মূল আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা। এই ব্যবসা থেকেই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করা হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, দাউদের নেটওয়ার্ক বছরে আনুমানিক ১৫ হাজার কোটি থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আয় করে এবং সেই আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পাকিস্তানের মদতে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যয় হয়।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, “মাদক সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে পারলে গোটা দাউদ চক্রই দুর্বল হয়ে পড়বে।” তিনি জানান, এই অভিযান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ‘নেশামুক্ত ভারত’ কর্মসূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রতি দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সলিম দোলাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে জানা গেছে। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইডি মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। মুম্বইয়ের পাশাপাশি গুজরাটের সুরাট, রাজকোট ও আঙ্কলেশ্বরেও অভিযান হয়। এই তল্লাশি সলিম দোলা-সংক্রান্ত অর্থ পাচার মামলার তদন্তের অংশ বলে জানা গেছে।
শুধু মাদক চক্রই নয়, দাউদের ঘনিষ্ঠ শার্পশুটার ও সহযোগীদের উপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, বর্তমানে তাদের শুধুমাত্র তোলাবাজির কাজে নয়, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায়ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দাউদ-ঘনিষ্ঠ আটজন সহযোগীকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে করাচি থেকে নির্দেশ পেয়ে তারা মুম্বই ও দিল্লিতে সন্ত্রাসী হামলার ছক কষছিল।
অন্যদিকে, এনআইএ দাউদ-নিয়ন্ত্রিত জাল নোট চক্রের একাধিক মামলার তদন্ত করছে। তদন্তকারীদের দাবি, জাল নোট ব্যবসা থেকেও বিপুল অর্থ উপার্জন করে তা আইএসআই-সমর্থিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্য, দাউদ ইব্রাহিমের আর্থিক ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের উপর লাগাতার চাপ বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। বর্তমান গতিতে অভিযান চলতে থাকলে দাউদ চক্রের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং একইসঙ্গে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর ক্ষেত্রে আইএসআই-ও বড় ধাক্কা খাবে।



















