নয়াদিল্লি, ১ জুন (আইএএনএস): বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান-এর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্যের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার রুখতে অন্তর্বর্তীকালীন একতরফা (এক্স পার্টে) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপফেক এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর পরিচয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি জ্যোতি সিং-এর একক বেঞ্চ অভিনেতার দায়ের করা বাণিজ্যিক মামলার শুনানিতে এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। মামলায় একাধিক অনলাইন ইভেন্ট বুকিং প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী সংস্থা এবং অজ্ঞাতপরিচয় “জন ডো” পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া সেলিব্রিটি বুকিং পরিষেবা, অভিনেতার নাম ও ছবি ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি, আপত্তিকর ও অবমাননাকর কনটেন্ট প্রচার এবং এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও ও ডিপফেক তৈরির মাধ্যমে বরুণ ধাওয়ানের ব্যক্তিত্বগত ও প্রচারমূলক অধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এছাড়াও অভিনেতার সঙ্গে মিথ্যাভাবে যুক্ত করে অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগও আদালতের সামনে উত্থাপিত হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফল অভিনয়জীবনের মাধ্যমে বরুণ ধাওয়ান উল্লেখযোগ্য সুনাম, জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক মূল্য অর্জন করেছেন। তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং আইনগত সুরক্ষার যোগ্য।
বিচারপতি জ্যোতি সিং বলেন, মামলার নথি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালতের প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে যে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। আদালত আরও জানায়, এই পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা না দিলে অভিনেতার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করেছে, কয়েকজন বিবাদী অনুমতি ছাড়া বরুণ ধাওয়ানের উপস্থিতি বুকিংয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল, তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছিল এবং আপত্তিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট প্রচার করছিল।
এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে বিভ্রান্তিকর, অশালীন এবং পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করে অভিনেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে আদালত।
ফলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিবাদীপক্ষ এবং তাদের সহযোগীরা বরুণ ধাওয়ানের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, চেহারা বা অন্য কোনও পরিচয়চিহ্ন ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এআই, জেনারেটিভ এআই, মেশিন লার্নিং, ডিপফেক, এআই চ্যাটবট, ফেস মরফিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া অভিনেতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনও পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালানো যাবে না এবং নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে তাঁর সম্পর্কে অবমাননাকর বা বিভ্রান্তিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট প্রচার থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ পাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-কমার্স পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে থাকা সংশ্লিষ্ট লিঙ্ক ও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে। ভবিষ্যতে অভিনেতার পক্ষ থেকে চিহ্নিত নতুন লঙ্ঘনমূলক কনটেন্টও একই সময়সীমার মধ্যে অপসারণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির মৌলিক তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে।
শুনানির সময় এক বিবাদীপক্ষ জানায় যে, মামলার আগাম কপি পাওয়ার পরই তারা বরুণ ধাওয়ান সম্পর্কিত বিতর্কিত প্রোফাইলটি সরিয়ে ফেলেছে। আদালত সেই বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ আগস্ট যৌথ নিবন্ধকের আদালতে এবং ১ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের ব্যক্তিত্বগত অধিকার রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম গম্ভীর, সুনীল গাভাস্কার, শ্রী শ্রী রবি শঙ্কর, অর্জুন কাপুর, আল্লু অর্জুন, নাগার্জুন, কাজল, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, জুবিন নৌটিয়াল, করণ জোহর, রাজ শামানি এবং শশী থারুর।



















