নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): আসন্ন রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে রবিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বাসভবনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
দলীয় সূত্রে খবর, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন, জে. পি. নাড্ডা-সহ দলের শীর্ষ নেতারা।
সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে আসন্ন রাজ্যসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা। পাশাপাশি যাঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে কাউকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যসভা নির্বাচনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কীভাবে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা যায়, সেই বিষয়েও আলোচনা করতে পারেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যার সমীকরণ নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিস্তারিত পর্যালোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সদস্যদের অবসরের ফলে এই আসনগুলি শূন্য হয়েছে।
রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৮ জুন। অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, কর্নাটক, ঝাড়খণ্ড, মেঘালয় এবং মিজোরাম-সহ একাধিক রাজ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে কর্নাটক, বিহার ও মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১৮ জুন মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের ১৬টি আসনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কর্নাটকে বর্তমান সদস্যদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাতটি আসন শূন্য হচ্ছে। অন্যদিকে বিহারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর পদত্যাগের ফলে একটি বিধান পরিষদ আসন খালি হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তরে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং গত ১২ বছরে মোদী সরকারের বিভিন্ন সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি কেন্দ্রে মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ভারতের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক ভোটারদের সামনে তুলে ধরার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এছাড়াও বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বাধীন দলের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক টিম গঠনের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি নীতিন নবীন দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং ত্রিপুরায় নতুন রাজ্য সভাপতি নিয়োগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার দায়িত্ব তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।



















