নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ মে: ত্রিপুরা সরকারের বন দপ্তর এবং ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্প -এর উদ্যোগে শনিবার প্রজ্ঞা ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো ফরেস্ট্রি ইন্টিগ্রেটেড জিওস্পেশিয়াল সলিউশন। জিআইএস ও এমআইএস-ভিত্তিক এই অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজ্যের বন ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জীবিকা পরিকল্পনাকে আরও বৈজ্ঞানিক ও তথ্যনির্ভর করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, বন দপ্তরের প্রধান সচিব ও প্রধান বনপাল আর. কে. সমল (আইএফএস), বন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজন। এদিন প্রকল্পের আধিকারিক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে মোবাইল ডিভাইস বিতরণ, এফআইজিএস ডেটা আপডেটে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সম্মাননা প্রদান এবং স্কেটফর্ম প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনারও উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, প্রযুক্তি ও প্রকৃতি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং প্রযুক্তি এখন বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বন অগ্নিকাণ্ড শনাক্তকরণ, মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে জিও-ট্যাগিং, ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার জরিপ এবং জিআইএস-ভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণে প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সংরক্ষণ ব্যবস্থা হবে প্রযুক্তিনির্ভর, তবে তা অবশ্যই প্রকৃতির মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন ব্যবস্থাপনায় জিওস্পেশিয়াল প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরাকেও প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
এফআইজিএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জিআইএস ম্যাপিং, রিমোট সেন্সিং, মোবাইল জিও-ট্যাগিং, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, ড্যাশবোর্ড, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট তৈরির মতো একাধিক সুবিধা একত্রে পাওয়া যাবে। এর ফলে বন ও জীবিকা সংক্রান্ত প্রকল্প পরিকল্পনা, সম্পদ সৃজন এবং পর্যবেক্ষণ আরও স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক হবে।
অনুষ্ঠানে ৩০০টি মোবাইল ডিভাইস বিতরণ করা হয়, যা ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে বৃক্ষরোপণ, নার্সারি, জল সংরক্ষণ কাঠামো, জীবিকা সংক্রান্ত সম্পদ এবং অন্যান্য প্রকল্পের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংগ্রহ ও আপডেট করা সম্ভব হবে। এতে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের মান ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।



















