কলকাতা, ৩০ মে (আইএএনএস) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শনিবার নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তবে ঘটনার সমালোচনার পাশাপাশি বিজেপি ও সিপিআই(এম) নেতৃত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনের আগে দেওয়া বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ সমিক ভট্টাচার্য সকলকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।
হামলার সময় পুলিশ কেন উপস্থিত ছিল না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর জবাব রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপরও উত্তরবঙ্গে প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হয়েছিল।
সমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীরা যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছেন। অথচ আগের তৃণমূল সরকার চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের উপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে। তখন রাজ্যে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও হিংসার বহু ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, সোনারপুরের ঘটনা যেমন দুর্ভাগ্যজনক, তেমনই নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন হুমকিমূলক ও উস্কানিমূলক মন্তব্যও গ্রহণযোগ্য ছিল না।
তিনি বলেন, তাঁর আগের বক্তব্য যেমন কাম্য ছিল না, তেমনই আজকের হামলাও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, বিজেপি সবসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চাইবে। এই ঘটনা সেই পরিকল্পনার অংশ কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। অতীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পরিণতি আমরা দেখেছি। সোনারপুরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হামলার সময় পুলিশ কী করছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
ঘটনার সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর (সিএপিএফ) জওয়ানরা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপদে সোনারপুর থেকে বের করে নিয়ে যায়। তবে তিনি এলাকা ছাড়ার সময়ও রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ‘চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজ আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমার সঙ্গে থাকা দুই-তিনজন মহিলা সহকর্মীকেও মারধর করা হয়েছে। ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে। আমার চশমার অবস্থা দেখুন। যদি বিজেপি এর সঙ্গে জড়িত না থাকে, তাহলে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? আমি এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও যাব।
সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক হিংসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



















