আগরতলা, ৩০ মে : সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (পিপিএসএল) চিটফান্ড সংস্থার তিন কর্ণধারকে কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে সিবিআই বিশেষ আদালত।
আজ রায় ঘোষণার পর মামলার আইনজীবী প্রসেনজিত সাহা বলেন, ২০০৯ সালে কৈলাসহরে প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীকালে ত্রিপুরা জুড়ে সংস্থার প্রায় ১৪টি শাখা অফিস গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিলেও ২০১১ সাল থেকে মেয়াদপূর্তির পরও আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হন। এরপর ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা সংস্থার চেয়ারম্যান অরিন্দম দাস, দীপশিখা চক্রবর্তী দাস এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ দাস বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
পরর্বতীতে মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে ন্যস্ত হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর সিবিআই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত সংস্থার চেয়ারম্যান অরিন্দম দাস, দীপশিখা চক্রবর্তী দাস এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ দাস-কে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি) এবং ৪২০ ধারায় প্রত্যেক অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া টিপিআইডি (ত্রিপুরা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা) আইনের ৩ নম্বর ধারায় প্রত্যেক অভিযুক্তকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং আরও এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে সংস্থাকেও টিপিআইডি আইনের অধীনে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং আইপিসির ১২০(বি) ও ৪২০ ধারায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তিনি আরও বলেন, আদালত সংস্থার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য মহকুমা শাসককে নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক আমানতকারীর কাছে এই রায় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করছে আইন মহল।



















