শিরডি, ২৩ মে (আইএএনএস): রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শনিবার বলেছেন, আধুনিক যুদ্ধ প্রচলিত যুদ্ধনীতির ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করবে না কোনও দেশের সেনা সংখ্যা, বরং নির্ভর করবে সেই দেশের গোলাবারুদের মজুত, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার উপর।
শিরডির কাছে সাভলি ভিহির শিল্পাঞ্চলে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যে দেশ নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরি করে, সেই দেশই নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই লিখে। প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ২০০ একর বিস্তৃত এই প্রকল্পটিকে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি আর্টিলারি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনাথ সিং বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত তার কৌশলগত দক্ষতা ও দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন সরকার বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী দিনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে আরও জোরদার করে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা গড়ে তোলা হবে। শিরডির এই উৎপাদন কেন্দ্র এবং শ্রিগোন্ডা তালুকের বেলওয়ান্ডিতে বছরে ২০ হাজার টন বিস্ফোরক উৎপাদনের প্রকল্প ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও মজবুত করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আত্মনির্ভর ভারত মানেই নিরাপদ ভারত, সক্ষম ভারত এবং শক্তিশালী ভারত। দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে শিল্পক্ষেত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলেও উল্লেখ করেন রাজনাথ সিং। তাঁর কথায়, এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে। বেসরকারি ক্ষেত্র আর শুধু যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী নয়, তারা এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা ডিজাইন, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশীদারিত্ব ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক বছরে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজনাথ সিং বলেন, আজ যে কারখানাগুলি আর্টিলারি শেল, ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করছে, সেগুলিই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি। এখানে বেসরকারি শিল্প কেবল সহযোগী নয়, বরং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্ভাবক ও নির্মাতা হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি ক্ষেত্রের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, দ্রুত কাজের ক্ষমতা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।



















