ভোপাল, ২৩ মে: মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা আত্মহত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত এবং তাঁর স্বামী সমর্থ সিংকে শনিবার সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল ভোপাল জেলা আদালত। শুক্রবার জবলপুর থেকে তাঁকে আটক করার পর শনিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে পেশ করা হয়।
আদালতে তোলার আগে পুলিশি নজরদারিতে সমর্থকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জয়প্রকাশ (জে.পি.) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভয়ে তাঁকে জেলা আদালতে আনা হয়। মামলাকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের কারণে আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আনুদিতা গুপ্তার আদালতে সমর্থকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাজির করা হয়।
দুপুর প্রায় ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। এরপর আদালত সাত দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করে। ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় আরও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে পুলিশ এই হেফাজতের আবেদন করেছিল। ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সিং জানান, শুক্রবার গভীর রাতে জবলপুর থেকে সমর্থকে ভোপালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন ধরে সমর্থ গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। এই সময় কেউ তাঁকে আশ্রয় বা পালাতে সাহায্য করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে কাটারা হিলস থানার অন্তর্গত শ্বশুরবাড়িতে ত্বিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপর থেকেই তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পণপ্রথাজনিত নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শনিবার ত্বিশা শর্মার পরিবার সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত এবং ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে তারা।
ত্বিশার এক আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, মামলার প্রাথমিক পদক্ষেপে দেরি হলেও সাম্প্রতিক বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তে তাঁরা আশাবাদী। তাঁর কথায়, মামলার তদন্তে শুরুতে অনেক দেরি হয়েছিল। তবে আদালত সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিবিআই তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং আদালতও বলেছে যে গিরিবালা সিংকে তড়িঘড়ি জামিন দেওয়া হয়েছিল। আমরা আশা করছি, সিবিআই দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে।


















