তিরুবনন্তপুরম, ২৩ মে (আইএএনএস) : কেরলে বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সিপিআই(এম)-এর অন্দরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলের বর্ষীয়ান নেতা পিনারাই বিজয়ন-কে ঘিরে সমালোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন পার্টি কমিটির বৈঠকে।
দিল্লিতে বর্তমানে দলের তিন দিনের পর্যালোচনা বৈঠক চলছে। যদিও সেই বৈঠকে উপস্থিত নেই পিনারাই বিজয়ন। সেখানে নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ এবং সংগঠনের ভিতরে বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করছেন শীর্ষ নেতারা।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে শুধু পরাজয়ের ব্যাপকতা নয়, বরং দলের ভেতর থেকেই প্রকাশ্যে উঠে আসা ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সুর।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে দলের একাংশ সরাসরি পদত্যাগের দাবি তুলেছে। সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ আসে পারাসালা এরিয়া কমিটির বৈঠকে। সেখানে এরিয়া সম্পাদক এস. অজয়কুমার দাবি করেন, পিনারাইয়ের বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত।
অজয়কুমারের অভিযোগ, এই ভরাডুবির জন্য একমাত্র পিনারাই বিজয়নই দায়ী। তিনি নাকি বিরোধী দলনেতা হওয়ারও যোগ্য নন এবং মর্যাদা রক্ষা করতে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো উচিত।
এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অজয়কুমারকে দীর্ঘদিন ধরে পিনারাইয়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই দেখা হত। অতীতে তিনি বিজয়নকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করেছিলেন।
তিরুভাম্বাডি এরিয়া কমিটির বৈঠকেও উত্তেজনা ছড়ায়, যখন কয়েকজন সদস্য নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য পি.এ. মহম্মদ রিয়াসকে দায়ী করেন। রিয়াস পিনারাই বিজয়নের জামাতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। যদিও এবারের নির্বাচনে তিনি বেপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন রাজ্য কমিটির সদস্য চন্দ্রন অভিযোগের প্রমাণ না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অথচ দলীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করে এসেছে যে পর্যালোচনা বৈঠকে খোলামেলা সমালোচনা গ্রহণযোগ্য।
রাজ্যের বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে পিনারাই বিজয়ন এবং রাজ্য সম্পাদক এম.ভি. গোবিন্দনের রাজনৈতিক আচরণ, জনসমক্ষে মন্তব্য এবং সংবেদনশীল বিষয় সামলানোর পদ্ধতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
দলের অনেক নেতার অভিযোগ, “কদক্কু পুরাথ” এবং “ড্যাশ মোনে”-র মতো মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে উল্টো প্রভাব ফেলেছে এবং সাধারণ ভোটারদের বিরূপ করেছে।
তবে এত চাপের মধ্যেও নেতৃত্ব বদলের কোনও ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। সূত্রের খবর, কেরল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে পিনারাই বিজয়নের নাম ইতিমধ্যেই জাতীয় নেতৃত্ব অনুমোদন করেছে।
সিপিআই(এম)-এর উদ্বেগ আরও বেড়েছে কারণ এই পরাজয়ের আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনেও দলকে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছিল।
প্রতিবারই দলীয় নেতৃত্ব “ঘুরে দাঁড়ানোর” আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাবর্তন হয়নি। ফলে একসময় দুর্ভেদ্য বলে পরিচিত বাম দুর্গ এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মুখে বলে মনে করা হচ্ছে।


















