কলকাতা, ২৩ মে (আইএএনএস) : রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে পরিচালন সমিতির কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে নতুন নিয়ম চালুর পথে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রস্তুত করা খসড়া নীতিতে পরিচালন সমিতির সদস্যদের আর মনোনয়নের মাধ্যমে নয়, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে নির্বাচন নয়, নির্বাচিত সদস্যদের মনোনয়ন প্রথাই চালু ছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র পরিচালন সমিতির সম্পাদক পদে কোনও নির্বাচন হবে না। সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিচালন সমিতির ৭০ শতাংশেরও বেশি পদ ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি সভাপতি ও সহ-সভাপতির পদও শুধুমাত্র অভিভাবকদের জন্য সংরক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ পদ স্থানীয় শিক্ষাবিদদের জন্য রাখা হবে। এছাড়া প্রতিটি পরিচালন সমিতিতে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত দুই জন জনপ্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে তাঁদেরও পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরিচালন সমিতির মেয়াদ হবে দুই বছরের বেশি। একবার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা পরবর্তী মেয়াদে আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পাদক পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলির জন্য পরিচালন সমিতির সদস্য সংখ্যাও নির্দিষ্ট করতে চলেছে। প্রাথমিক স্কুলে সর্বাধিক ১৫ জন, মাধ্যমিক স্কুলে ২০ জন এবং উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে ২৫ জন সদস্য রাখা হতে পারে।
শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মাইতি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশের সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে স্কুল প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















