কলকাতা, ১৯ মে (আইএএনএস): কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (কেএমসি) এবার তদন্ত শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী-এর নামে বা যৌথ মালিকানাধীন একাধিক সম্পত্তি নিয়ে। অভিযোগ, এই সম্পত্তিগুলির নির্মাণে অনিয়ম থাকতে পারে।
জানা গিয়েছে, কেএমসি আইন ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারার অধীনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বা যৌথ মালিকানাধীন মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ধারায় অভিযুক্ত সম্পত্তির মালিকদের পুরসভার সামনে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির দেওয়ালেও নোটিসের কপি সাঁটানো হয়েছে। এর মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দুটি বাসভবনও রয়েছে— একটি ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডে এবং অন্যটি ১২১ কালীঘাট রোডে।
হরিশ মুখার্জি রোডের সম্পত্তির ক্ষেত্রে নোটিস পাঠানো হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড-কে, যা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে কালীঘাট রোডের সম্পত্তির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা ব্যানার্জী-র নামে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই দুটি সম্পত্তিই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-র কালীঘাটের বাসভবনের খুব কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। তবে এই নোটিস নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধী দলগুলি— প্রথমে সিপিআই(এম), পরে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে বিজেপি— বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে বিপুল সম্পত্তি থাকার অভিযোগ তুলেছিল। যদিও সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগকে বিরোধীদের কুৎসা বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ‘মিস্টার নেফিউ’ বলে উল্লেখ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের কথা বলেছিলেন।
তিনি দাবি করেছিলেন, “মিস্টার নেফিউ”-র একটি সংস্থার নামে থাকা ২৪টি সম্পত্তির তালিকা তিনি কেএমসি থেকে সংগ্রহ করেছেন।
সোমবারও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।



















